Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর

 ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর

এক পাটি জুতো। ভাঙা হাতঘড়ি। কফি মেশিন, হাতে-আঁকা ছবি, ঘরের চাবি। ভালবাসার সম্পর্কের সঙ্গে অজান্তে জড়িয়ে যায় যে সব তুচ্ছ জিনিস, তারাই স্থান পেয়েছে এখানে। সুমন্ত্র চট্টোপাধ্যায় যে কুড়ুলটা দিয়ে এই ধ্বংসলীলা হয়েছিল সেটিকে নিয়ে কী করা উচিত? জাদুঘরে রাখা উচিত?

সব কিছু ঠিকঠাক যাচ্ছিল না। মেয়েটা ভেবেছিল হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু হল না। এক সকালে ছেলেটা হঠাৎ জানাল, সে আর এক জনকে ভালবাসে। শুধু তা-ই নয়, সে দিনই ব্যাগপত্র গুছিয়ে চলে গেল অন্য মেয়েটির সঙ্গে থাকবে বলে। বাড়িটা ছেলেটারই, আসবাবও তারই কেনা। ছেলেটা বলে গেল, ইচ্ছে করলে মেয়েটা সেখানে থাকতে পারে। মেয়েটার হাতের কাছে একটা কুড়ুল ছিল, সেটা হাতে নিয়ে বহু আসবাব ফালাফালা করে দিল সে। কয়েকদিন পর নাকি ছেলেটা এসেছিল আর সমস্ত ভাঙা কাঠ সযত্নে গুছিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
যে কুড়ুলটা দিয়ে এই ধ্বংসলীলা হয়েছিল সেটিকে নিয়ে কী করা উচিত? জাদুঘরে রাখা উচিত? বাস্তবে তা-ই হয়েছে। যে সে জাদুঘর নয়, বিশেষ এক সংগ্রহশালা। নাম ‘মিউজ়িয়ম অব ব্রোকেন রিলেশনশিপস’— ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর। সেখানেই শোভা পাচ্ছে এই কুড়ুল, সঙ্গে উপরের গল্পটুকু। অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্রতীরে, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশ ক্রোয়েশিয়া, তারই রাজধানী জাগ্রেব এই জাদুঘরের ঠিকানা।
চলচ্চিত্র প্রযোজক ওলিঙ্কা ভিসটিকা ও ভাস্কর দ্রাজেন গ্রুবিসিক-এর চার বছরের সম্পর্ক ভেঙে যায় ২০০৩ সালে। বিচ্ছেদের বেদনার মধ্যেই তাঁরা মজা করে বলেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা জিনিসপত্র নিয়ে একটা সংগ্রহ করলে বেশ হয়। গোড়ায় সেটা ছিল নেহাতই কথার কথা, কিন্তু বছর তিনেক পরে সত্যিই নড়েচড়ে বসেন দু’জনে। বন্ধুদের কাছে চাইতে থাকেন এমন কোনও জিনিস যার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বেশ কিছু জিনিস জুটেও গেল, আর তা প্রদর্শিত হল জাগ্রেবের এক আর্ট গ্যালারিতে।
এর পর এই সংগ্রহ চলল বিশ্ব ভ্রমণে। জার্মানি, বসনিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, আমেরিকা, আরও বহু দেশে গেল। সমব্যথী মানুষের দানে বাড়তে থাকল সংগ্রহ সম্ভার। এক বার্লিনেই পাওয়া গেল ৩০টি নতুন জিনিস, সবই বিচ্ছেদের বেদনা মাখা। ওলিঙ্কা ও দ্রাজেন ক্রোয়েশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রকে বেশ কয়েকবার আবেদনও করেছিলেন এই সংগ্রহের একটা স্থায়ী ঠিকানার জন্য। প্রতি বারই আবেদন ব্যর্থ হতে রোখ চেপে গেল ওঁদের। নিজেরাই ভাড়া করলেন জাগ্রেব শহরের ৩২০০ বর্গফুট জায়গা। ২০১০-এর অক্টোবরে সেখানেই স্থাপিত হল ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জাদুঘর।
কী আছে এই জাদুঘরে? মেয়েদের এক পাটি স্টিলেটো জুতো, এক পাতা গ্যাস্ট্রাইটিসের ট্যাবলেট, একটা ভাঙা হাতঘড়ি, কফিমেকার, মেট্রোয় আঁকা কোনও দম্পতির স্কেচ, বট্‌ল ওপেনার, ঘরে বানানো বর-বৌ পুতুল, মা আর ছানা-ব্যাং পুতুল, ছেঁড়া দস্তানা, আরও অসংখ্য জিনিস। বলা বাহুল্য, প্রতিটি জিনিসের সঙ্গেই জোড়া আছে এক-একটি গল্প। ভাঙা সম্পর্কের।
সত্যজিৎ রায়ের গল্পে রাস্তাঘাট থেকে কুড়িয়ে আনা আরও পড়ুন....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ